সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় চুক্তি ভঙ্গ করে অন্যের কাছে জমি বিক্রির করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খেশরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ গাজীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ভবেন্দ্র দাস (৫৯) নামের এক ব্যক্তি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালার শ্রীমন্ত কাটিগ্রামের ভবেন্দ্র দাস সাড়ে ৯ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য প্রায় তিন মাস আগে একই উপজেলার বালিয়া গ্রামের আবদুল আহাদের সঙ্গে ৬৮ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। জমির মূল্য বাবদ কয়েকবারে আবদুল আহাদ গাজী ২৫ হাজার টাকা ভবেন্দ্র দাসকে পরিশোধ করেন।
ভবেন্দ্র দাস বলেন, নির্ধারিত সময়ে পুরো টাকা না দেওয়ায় তিনি ৭ আগস্ট ওই সাড়ে ৯ শতাংশ জমি দ্বিগুণ মূল্যে বালিয়া গ্রামের হারুন ম-লের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার জানাজানি হলে গতকাল সকালে আবদুল আহাদ বাড়িতে ডেকে পাঠান তাঁকে। সকাল সাতটার দিকে তিনি আবদুল আহাদের বাড়িতে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে পিছমোড়া করে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। তাঁকে সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বেঁধে রাখা হয়।
একপর্যায়ে ভাতিজা স্বপন দাস এসে তাঁর দেনা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেন। সঙ্গে সঙ্গে ১৭ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি ৮ হাজার টাকার জন্য সময় নেওয়া হয় আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ছাড়া পাওয়ার পর ভবেন্দ্র দাস জানান, তাঁর ডান কানে আঘাত করায় তিনি ঠিকমতো শুনতে পারছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল আহাদ গাজী বলেন, ‘ভবেন্দ্র আমার সঙ্গে চুক্তি করেও জমি লিখে দিতে টালবাহানা করছিলেন। পরে গোপনে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন। খবর পেয়ে তাঁকে ডাকা হয়। তবে ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। এ ঘটনায় তিনিও ভুল করেছেন, আমিও ভুল করেছি। আমার অন্যায় হয়েছে।’
তালা থানার খেশরা পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মনজুরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।