Dhaka , Saturday, 30 August 2025

৮৫ বছর পর আজান হতে যাচ্ছে যে মসজিদে 

এক সময় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কুপ্রেস পৌরসভার মানুষের হৃদয়স্পন্দন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র ছিল রাভনো মসজিদ। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতায় এর পাথরের গম্বুজ ভেঙে পড়ে, দেয়ালগুলো ধসে যায়, মিনার নিঃশব্দে স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

তবে প্রায় আট পর আবারও নতুন রূপে ফিরেছে ঐতিহাসিক মসজিদটি। ২০২৪ সালের ১৭ মে স্থানীয় মুসলমানদের অবিচল প্রচেষ্টা ও ঐকান্তিক প্রয়াসে শুরু হয় মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান।

যে পাপের কারণে চেহারা বিকৃত করে শাস্তি দেবেন আল্লাহ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পৌরসভা, বেসরকারি কম্পানি ও উদার ব্যক্তিগত দাতাদের পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়া ও মন্টিনেগ্রোর মুসলিম সম্প্রদায়ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এই মহৎ উদ্যোগে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মুসলিম ভ্রাতৃত্বের মিলিত সহায়তায় আজ ধ্বংসস্তূপের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এক নবনির্মিত সৌধ। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ইসলামিক কমিউনিটির সম্মানিত চেয়ারম্যান ড. হুসেইন কাভাজোভিচ। এদিন রাভনোর আকাশে আবারও ভেসে উঠবে আজানের সুমধুর ধ্বনি, যা হবে বহু বছরের আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই পুনর্জাগরণ শুধু একটি মসজিদের নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, আস্থা ও ঐক্যের প্রতীক। ৮৫ বছরের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আবারও মিনার থেকে ধ্বনিত হবে ‘আল্লাহু আকবার’ প্রমাণ করে—ঈমানের আলো কখনও নিভে যায় না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Satkhira observer

Popular Post

৮৫ বছর পর আজান হতে যাচ্ছে যে মসজিদে 

Update Time : 12 Hours Ago

এক সময় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কুপ্রেস পৌরসভার মানুষের হৃদয়স্পন্দন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র ছিল রাভনো মসজিদ। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতায় এর পাথরের গম্বুজ ভেঙে পড়ে, দেয়ালগুলো ধসে যায়, মিনার নিঃশব্দে স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

তবে প্রায় আট পর আবারও নতুন রূপে ফিরেছে ঐতিহাসিক মসজিদটি। ২০২৪ সালের ১৭ মে স্থানীয় মুসলমানদের অবিচল প্রচেষ্টা ও ঐকান্তিক প্রয়াসে শুরু হয় মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান।

যে পাপের কারণে চেহারা বিকৃত করে শাস্তি দেবেন আল্লাহ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পৌরসভা, বেসরকারি কম্পানি ও উদার ব্যক্তিগত দাতাদের পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়া ও মন্টিনেগ্রোর মুসলিম সম্প্রদায়ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এই মহৎ উদ্যোগে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মুসলিম ভ্রাতৃত্বের মিলিত সহায়তায় আজ ধ্বংসস্তূপের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এক নবনির্মিত সৌধ। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ইসলামিক কমিউনিটির সম্মানিত চেয়ারম্যান ড. হুসেইন কাভাজোভিচ। এদিন রাভনোর আকাশে আবারও ভেসে উঠবে আজানের সুমধুর ধ্বনি, যা হবে বহু বছরের আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই পুনর্জাগরণ শুধু একটি মসজিদের নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, আস্থা ও ঐক্যের প্রতীক। ৮৫ বছরের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আবারও মিনার থেকে ধ্বনিত হবে ‘আল্লাহু আকবার’ প্রমাণ করে—ঈমানের আলো কখনও নিভে যায় না।